শাটডাউনের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে বাজেট ঘাটতি বেড়েছে ১০%

চলতি ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস অক্টোবরে বার্ষিক ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে।

চলতি ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস অক্টোবরে বার্ষিক ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রেকর্ড ৪৩ দিনের শাটডাউন এবং নভেম্বরের কিছু কল্যাণ ভাতা আগাম দেয়ায় বাজেট ঘাটতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট ঘাটতি ছিল ২৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বেশি। এজন্য সামরিক ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিছু কর্মসূচির প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের কল্যাণ ভাতা পরিশোধকে দায়ী করা হচ্ছে, যা আগাম পরিশোধ করা হয়েছে। এ ব্যয় সমন্বয় করা হলে অক্টোবরে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি দাঁড়াত ১৮ হাজার কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ কম।

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্মিলিত সরকারি ব্যয় ছিল ৬৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। তবে শাটডাউন চলাকালীন বিভিন্ন দপ্তরের বকেয়া অর্থ পরিশোধ কতটা কমেছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হিসাব মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, শাটডাউন-সংক্রান্ত এ বিলম্বজনিত বকেয়া মোট ব্যয়ের ৫ শতাংশের কম।

মার্কিন আইন অনুযায়ী শাটডাউনকালে স্থগিত থাকা বেতন ও পাওনা পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম শুরু হলে পরিশোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত মাসে মোট রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ। এ আয়ের বড় অংশ এসেছে শুল্ক আদায় বাবদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করার পর অক্টোবরে শুল্ক আহরণ পৌঁছায় ৩ হাজার ১৪০ কোটি ডলারে, যা গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় চার গুণের বেশি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক আদায় আরো ‘আকাশচুম্বী’ আকারের হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট শুল্কবিষয়ক সিদ্ধান্তের বৈধতা বজায় রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) বলছে, আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল শুল্কের কারণে আগামী দশকে মার্কিন বাজেট ঘাটতি ৪ লাখ কোটি ডলার কমতে পারে। কিন্তু নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে কিছু শুল্ক কমানোয় তা নেমে দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি ডলারে।

অক্টোবরে দেশটিতে ব্যক্তি পর্যায়ের কর আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার কোটি ডলারে। এর অন্যতম কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের কর পরিশোধের সময়সীমা অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি। তবে করপোরেট কর ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে। নিয়মিত বেতন থেকে কর আদায় ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে, যা গত বছরের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, উচ্চ ঋণ ও গড় সুদহার সামান্য বাড়ার প্রভাব ব্যয়ের ওপর দেখা যাচ্ছে।

আরও